নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি খেয়াঘাটের ইজারার সিডিউল জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি, আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি সদস্য গ্রুপ ও এনসিপির সমর্থকদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধিন বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজাপুর খেয়াঘাটের ইজারা পাওয়ার জন্য দুপুর ১টার দিকে সিডিউল জমা দিতে যান বিএনপির নজরুল গ্রুপ, আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ মেম্বার গ্রুপ এবং এনসিপি সমর্থিত আলিফ দেওয়ান গ্রুপের লোকজন। এসময় সাবেক ইউপি সদস্য রশিদ মেম্বারের লোকজন বাঁধা দিলে এ নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ হলে উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ফতুল্লা থানা পুলিশ গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফতুল্লার রাজাপুর গুদারাঘাটের অস্থায়ী ইজারার জন্য মঙ্গলবার ছিল সিডিউল দাখিলের শেষ দিন। এদিন সিডিউল দাখিল করতে আসেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলার আহ্বায়ক যুবায়ের আহমেদ সরদার এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামী ও আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ মেম্বার। এসময় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতেই হঠাৎ বিএনপির নজরুল ও এনসিপির যুবায়ের গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ দুই গ্রুপকে দুই দিকে সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর ফের হৈ-হুল্লোড় করে এনসিপির নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে ভয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতর আশ্রয় নেয়। তখন পুলিশ উভয় গ্রুপকেই ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে এনসিপির জেলার আহ্বায়ক যুবায়ের আহমেদ সরদার বলেন, ‘সিডিউল দাখিল করতে বিএনপির নজরুল ও তার লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের বাঁধা দেয়। তখন আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিডিউল দাখিল করতে কাউকে বাধা দেয়নি। তারা ইচ্ছে করেই মারামারি করেছে।’
সংঘর্ষের বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সিডিউল দাখিল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা হয়েছিল। পরে তাদের শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
এ ঘটনার পর টেন্ডার সিডিউল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘রাজাপুর খেয়াঘাটের অস্থায়ী ইজারা প্রদানের জন্য ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এতে ৪ জন সিডিউল দাখিল করেছে। মূল্যায়ন কমিটি আগামি ৩ কার্য দিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতার নাম ঘোষণা করবেন।’
সদর ইউএনও আরও বলেন, ‘অফিসের বাইরে কারা, কি নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ফতুল্লা থানা পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
মন্তব্য করুন