
মো:সাজু হোসেন: পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ১৮ নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী লুহিয়ার বালুর মাঠ গাঠান নগর পশুর হাট পুরোদমে জমে উঠেছে। ট্রলার ও নৌকা বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই হাটে আসছে নানা জাতের ও আকারের গরু।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ার কারণে প্রতি বছরের মতো এবারও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অন্যতম প্রধান পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই হাটটি।

আজ সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়,দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত গরু ট্রলারে করে সরাসরি ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছে। নদীপথে যাতায়াত সহজ হওয়ায় খামারি ও ব্যাপারীরা কোনো ধরনের ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই হাটে পশু নিয়ে আসতে পারছেন।
ঘাটে ট্রলার ভেড়ার সাথে সাথেই বাঁশের মাচা এবং চটের বস্তা বিছিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বড় বড় গরুগুলোকে পাড়ে নামানো হচ্ছে। হাটের এক অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এক বিশাল আকৃতির কালো রঙের ষাঁড়, কপালে সাদা তিলক আঁকা এই গরুটিকে ট্রলার থেকে নামানোর সময় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
হাটের তদারকিতে থাকা কমিটির সদস্যরা জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পাহারাদার এবং হাসিল ঘরের বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
"নদীপথে ট্রলারে করে গরু আনা-নেওয়া খুব আরামের। রাস্তায় যানজটের ভয় থাকে না, গরুরও কোনো ক্লান্তি আসে না। হাটের পরিবেশ বেশ ভালো, আশা করছি এবার ভালো দাম পাব।"
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, অন্যান্য হাটের তুলনায় লুহিয়ার বালুর মাঠ গাঠান নগরের হাটে খোলামেলা পরিবেশ থাকায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে ঘুরে পছন্দের কোরবানি পশু দেখতে পারছেন। এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু না হলেও, দরদামের মাধ্যমে হাট জমে উঠেছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।