
জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রসূতিসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় আয়োজিত এ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জনাব মো. রায়হান কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এস এম ফয়েজ উদ্দিন। এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ঔষধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময়, যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে।
Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় এ উদ্যোগ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এসব ঝুঁকিতে অধিকতর уulnerable। এ বাস্তবতায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধ সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জনাব মো. রায়হান কবির বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। বিতরণকৃত চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা যেন এর সুফল পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পরিবেশ ও সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।